ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
ভোলা প্রতিনিধ।।
ভোলায় আদালতের গইট বন্ধ করে দেয়াল উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সরে জমিনে গিয়ে জানা যায় জেলা জজ আদালত ভবনের পিছনে উত্তর গেইট দিয়ে মুন্সেফ কোয়ার্টারের যাওয়ার রাস্তাটি শত বছরের পুরানো। সম্প্রতি সময়ে একটি মহল ওই রাস্তাটি বন্ধ করে একটি দেয়াল উত্তোলন করেন যাহা জেলা জজ আদালতের পিছনের গেইটটি বন্ধ করে দেয়। গত কয়েক দিনের মধ্যে এ দেয়ালটি যেকোনো বন্ধের দিন তৈরি করা হয়েছে বলে জানালেন আদালত কর্তৃপক্ষ।
পরে বিষয়টি জানতে পেরে ভোলা আইনজীবী সমিতির সদস্যগণ ও আদালত কর্মচারীগণ গেইট অবরুদ্ধ করা ওই দেয়ালটিকে অপসারণ করে তাদের চলার পথ সচল করেছেন বল জানান তারা।
এলাকাবাসী জানান, বিচারকদের চলাচলের শত বছরের এই পুরানো মুনসেফ সড়কটি বিচারকদের নিরাপদে চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে সড়ক দিয়ে বিচারকগণ নিরাপদে তাদের বাস ভবনে অাসা যাওয়া করছে। এ সড়ক টি বন্ধ করে দেয়ার ঘটনাটা অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ হয়েছে বলে জানালেন ভোলার সচেতন মহল।
বর্তমানে ওই রাস্তাটির অনেকাংশে পিচ উঠে কিছুটা খানা খন্দ হওয়ায় ব্যবহারে কিছুটা অনুপযোগী হয়ে পরে। এ বিষয়ে আদালত কর্তৃপক্ষ রাস্তাটি মেরামতের জন্য বারবার পৌর কর্তৃপক্ষ কে চিঠি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আদালতে কর্তৃপক্ষ। এতে বারবার মেরামতের আশ্বাস মিললেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলেও জানান তারা। ফলে মেরামতবিহীন রাস্তা দিয়ে চলাচলে ব্যাপক অসুবিধা পড়তে হয় বিচারক ও আদালত কর্মচারীদের। এতে করে ওই রাস্তায় কিছুদিন ধরে বিচারকদের গাড়ি গাড়ি চলা বন্ধ ছিল। ফলে এখানে কিছুটা পরিত্যক্ততা সৃষ্টি হয়। এ সুবাদে রাস্তাসহ এই জায়গাটি দখল করার অপচেষ্টা চালায় একটি মহাল এবং বন্ধ করে দেওয়া হয় জেলা জজ মহোদয়ের পিছনের গেইট।
এদিকে আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট ফরিদুর রহমান জানান, আদালত কর্তৃপক্ষকে কোন প্রকার লিখিত অবহিতকরণ ছাড়াই জেলা প্রশাসন এবং গণপূর্ত বিভাগ জেলা জজ বাহাদুরের পিছনের গেট বন্ধ করে পাকা দেয়াল নির্মাণ করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। এটি যারা করেছে তারা সঠিক করেনি।
অপরদিকে জেলা জজ বাহাদুরের গেইট অবরুদ্ধ করা দেয়ালটি যারা অপসারণ করেছেন তারা সঠিক কাজই করেছেন। তিনি আরো বলেন বিচারকদের ব্যবহার করা শত বছরের এই পুরানো রাস্তাটি সংস্কার করে নিরাপদে বিচারকদের চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া উচিত।তা না হলে বিজ্ঞ বিচারক মন্ডলীকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে। তিনি আরো বলেন এ বিষয় নিযে গণপূর্ত প্রকৌশলী জেলা প্রশাসনের দেয়াল ভাঙ্গার বিষয় তুলে ধরে সদর থানায় যে সাধারণ ডায়েরি করেছেন তাহা সঠিক নয়। কারণ জেলা প্রশাসক মহোদয়ের বাসভবনের দেয়াল ভাঙার প্রশ্নই উঠে না।
তবে জেলা প্রশাসন সূত্র সূত্র জানিয়েছে তারা নিরাপত্তার স্বার্থে দেয়াল নির্মাণ করেছে। রাস্তাটিতে পরিত্যক্ততা সৃষ্টি হওয়ায় তারা দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।
তবে কেন জেলা জজ বাহাদুরের রাস্তা ও গেইট অবরুদ্ধ করহয়েছে তার কোন সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি।
তবে এ বিষয়ে কোন আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে কি না? তা জানায়নি আদালত কর্তৃপক্ষ